Bangla24x7 Desk : মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ! দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে , ৪৮ ঘণ্টাতেই হতে পারে মৃত্যু ! জাপানে দ্রুতহারে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। ইতিমধ্যে জাপানে STAS এর ৯০০টির বেশি কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। জাপান ছাড়াও ইউরোপেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। কোভিড ভাইরাসের পর এবার ভয় ধরাতে শুরু করেছে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া। যার বৈজ্ঞানিক নাম, স্ট্রেপ্টোকক্কাস। এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং টিস্যুগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এই রোগের নাম Streptococcal Toxic Shock Syndrome। 

কীভাবে এই রোগ হয় ? রোগের উপসর্গগুলো কী ? দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ যুগল কিশোর জানান, STSS ব্যাকটেরিয়া শরীরে খোলা ক্ষত বা পোড়ার মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে। একইভাবে টিটেনাস সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। এই ব্যাকটেরিয়া দেহে প্রবেশ করলে ধীরে-ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায় এবং অতিরিক্ত জ্বর হয়।  STSS রোগে আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে গলা ব্যথা, শরীরের কোনও অংশে ফুলে যাওয়া, মুখে লাল এবং বেগুনি দাগ, ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়া, অতিরিক্ত জ্বর দেখা দেবে।

কীভাবে ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় ? দিল্লির আরএমএল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ অঙ্কিত রাওয়াত জানান, স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে রোগীর জ্বর এবং নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা হয়। ব্যাকটেরিয়া এমনভাবে আক্রমণ করে যে টিস্যুগুলি মৃত্যু হতে শুরু করে। এর ফলে রোগীর শরীরের কোনও অংশ বিকল হয়ে যায়। যদি সময়ের মধ্যে চিকিৎসা না হয়, তাহলে অঙ্গটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাবে, যা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেয়। এই ব্যাকটেরিয়া হার্ট, কিডনি এবং লিভারের মতো যে কোনও অঙ্গকে আক্রমণ করে। যেহেতু এটি টিস্যু ধ্বংস করতে শুরু করে, তাই একে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া বলা হয়।।

কাদের ঝুঁকি বেশি ? কীভাবে বাঁচবে ? অন্যান্য রোগের মতো STSS রোগেও শিশু এবং বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এছাড়া খোলা ক্ষতযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে STSS এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে যারা সম্প্রতি অস্ত্রোপচার করেছেন বা ভাইরাল সংক্রমণ হয়েছে তাদেরও ঝুঁকি রয়েছে। ১) ক্ষতস্থানের চারপাশে জ্বালাপোড়া থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ২) হাত ধুতে থাকুন। ৩) জ্বর হলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৪) সংক্রমিত এলাকায় যাওয়া এড়িয়ে চলুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *