Bangla24x7 Desk : অন্ত্বঃসত্বা বধূর উপর নিয়মিত চলত মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। দাবি একটাই – দিতে হবে পণ , যৌতুক। না দিতে পারায় অন্ত্বঃসত্বা বধূকে খুন করে বাড়িতে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক ঘটনা বারুইপুর থানা এলাকার শঙ্করপুরে। পণের দাবিতে গৃহবধূকে খুন করা যায় ! তাও আবার একজন অন্ত্বঃসত্বা ! কতটা অমানবিক ঘটনা ! ভাবুন একবার! মানুষের লোভের সীমা কোথায় গিয়ে আজ পৌঁছেছে ?  ঘটনার পর থেকে পলাতক শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বারুইপুর থানা এলাকার শঙ্করপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজগরা , স্থানীয় বহড়ু এলাকার বাসিন্দা রুকসানা বিবির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সাহিলের। মাস আটেক আগে রুকসানার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়। তার পরেই রুকসানা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন সাহিলকে। রুকসানা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও দাবি পরিবারের। রুকসানার দাদা খোকন শেখ বলেন, ‘‘আমার বোন মানসিক অত্যাচারের শিকার। টাকা এবং জিনিসপত্রের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ওর উপর অত্যাচার করত। আমার আর এক বোনকেও সে কথা জানিয়েছিল। অশান্তির কারণে ও আমাদের বাড়িতে চলেও এসেছিল।’’

মৃত রুকসানার বাবা রোশন শেখ বলেন, ‘‘আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। দোষীদের শাস্তি চাই।’’ তাঁর অভিযোগ, পণের জন্যই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা রুকসানাকে খুন করেছে। একই দাবি মৃতার দিদি জাসমিনা বিবিরও।  স্থানীয় শঙ্করপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দীপক নস্কর বলেন, ‘‘গতকাল রাত ১১টার সময় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গিয়েছিলাম। মৃতার বাড়ির লোকজন এবং গ্রামবাসীরা এসেছিলেন। পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছি, সঠিক তদন্ত করে দেখা হোক কেউ দোষী কি না।’’ ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকার বাসিন্দারা দেহ উদ্ধারের সময় পুলিশকে বাধা দেন। শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে অধিক পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে। পণের লোভ কতটা হলে কাউকে খুন করা যায় ? বৃহস্পতিবার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর পুলিশ সূত্রে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *