Bangla24x7 Desk : বোলপুরে মধ্যরাতে সন্তান সহ স্বামী স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় নয়া মোড়। উঠে এল পরকীয়ার তথ্য। শনিবার সকালে শেখ আব্দুল আলিমের মৃত্যুর খবর গ্রামে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, মৃত আব্দুল হালিমের ভাই রতন শেখের স্ত্রী স্মৃতি বিবির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল পাশের গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার শেখ সফিকুল ইসলামের। আর তা নিয়ে পারিবারিক বিবাদ চলত। হাতুড়ে ডাক্তারের বাড়ি সুপুর বানপাড়া এলাকায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই আক্রোশ বাড়ে মৃত আব্দুল আলিমের পরিবারের উপর। এরপর ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। ইতিমধ্যেই বোলপুর থানার পুলিশ হাতুড়ে ডাক্তার শেখ সফিকুল ও মৃত আব্দুল হালিমের ভাইয়ের স্ত্রী স্মৃতি বিবিকে আটক করেছে। দুজনের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় সূত্রে খবর , রজতপুর গ্রামের বাসিন্দা বছর আটত্রিশের শেখ তোতা , বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়াদাওয়া করে স্ত্রী রুপা বিবি ছোট পুত্র বছর চারেকের আয়ান শেখকে নিয়ে একতলা বাড়িতে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, গরমের রাত। জানলা খোলা। তবে রাতের আঁধারে বাড়ির জানলা খুলে ঘুমানোর চরম মূল্য দিলেন তাঁরা। রাতের অন্ধকারের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ বা কারা জানলা দিয়ে ঘরের মধ্যে কেরোসিন তেল ছিটিয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালায়। তাঁদের চিৎকারে উঠে আসে পাশের ঘরে শুয়ে থাকা বড় ছেলে শেখ রাজ। তার চেঁচামেচিতে উঠে আসেন প্রতিবেশীরা।

 গুরুতর জখম তিনজনকে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপরেই তাঁদেরকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর প্রথমে ছোটো ছেলে আয়ানের মৃত্যু ঘটে। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই মা রুপার মৃত্যু হয় বলে গ্রামবাসীদের সূত্রে খবর। যদিও এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বাবা শেখ তোতা। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটানায় গতকাল গভীর রাতেই ঘটনাস্থলে যায় বোলপুর থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালেও এলাকায় রয়েছে চাপা উত্তেজনা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বোলপুর থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *