img-2

Bangla24x7 Desk : সোমবার তখন সকাল প্রায় ৮ টা। ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা ছিল গোটা গ্রাম। নামাজের পর কুরবানির প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। কেউ সাজুগুজু আবার কেউ নিজ নিজ কাজে ছিলেন ব্যস্ত। সোমবার ঈদের সকালে শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ার নির্মলজোত গ্রামের ছবিটা ছিল ঠিক এটাই। কিন্তু চোখের পলকে আচমকাই পাল্টে গেল পুরো ছবিটাই। বিকট একটা শব্দ – আর নিমেশেই ভুলিয়ে দিল ঈদের খুশি আর ব্যস্ততা। স্থানীয় মসজিদের তরফে ঘোষণা – আর উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বাসিন্দারা। কেই বা হিন্দু আর কেই বা মুসলিম , কোথায় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ? কুরবানি বন্ধ রেখে ঈদের উৎসব ভুলে উদ্ধারকাজে ঝাঁপালো গোটা নির্মলজোত গ্রাম। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জালাস নিজামতোড়া পঞ্চায়েত – শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ার নির্মলজোত গ্রামে প্রায় শ’দেড়েক পরিবারের বাস। আর পাঁচটা ঈদের দিনের থেকে কোন অংশে আলাদা ছিল না নির্মলজোত গ্রামের ঈদের পরিবেশ।

img-3

বৃষ্টিবিঘ্নিত আবাহাওয়া , মেঘলা আকাশের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে ঈদের আনন্দের মেতে উঠেছিলেন সকলেই। মহিলারা পড়েছিলেন বাড়িতে নামাজ , পুরুষরা গিয়েছিলেন মসজিদে। আচমকা ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা , কান্না আর আর্ত চিৎকারে ঢাকা পড়ে গেল ঈদের হাসি , আনন্দ। ঈদের কুরবানি বন্ধ করে ঘটনাস্থলে ছুটলেন মহম্মদ রশিদ , মহম্মদ জাহিদরা। ততক্ষণে তাঁরা ভুলে গিয়েছেন ঈদের উৎসব। কেই বা হিন্দু আর কেই বা মুসলিম ? ধর্ম ভুলে তাঁরা ঝাঁপালেন উদ্ধারকাজে। গ্রামের কেউ না হলেও তাঁরাও তো স্বজন। তাই তো নির্মলজোত গ্রামের আকাশ আজ ঈদের খুশিতে নয় , বরং শোকের চাদরে নিমজ্জিত। সত্যি ! একটা ট্রেন দুর্ঘটনা ! কাঞ্চনজঙ্ঘার মর্মান্তিক পরিণতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বিপদের দিনে ধর্মীয় বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে না সম্প্রীতির বন্ধন , সাম্প্রদায়িকতার কাঁটাতার আটকাতে পারে না জাতপাতের ভেদাভেদ।    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *